ALRD

Press Release

Home Knowledge Press Release

জাতিসংঘ ঘোষিত আর্ন্তজাতিক পরিবারভিত্তিক চষাবাদ দশক?

IMG

Virtual National Consultation Workshop 

জাতিসংঘ ঘোষিত আর্ন্তজাতিক পরিবারভিত্তিক চষাবাদ দশক

UN DECADE OF FAMILY FARMING (UNDFF)

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বরাবর,

বার্তা সম্পাদক/ প্রধান প্রতিবেদক

সকল দৈনিক প্রিন্ট অনলাইন সংবাদ মাধ্যম

কৃষি কৃষকের টেকসই উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর সমবায় ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে

জাতিসংঘ ঘোষিত আর্ন্তজাতিক পরিবারভিত্তিক চাষাবাদ দশক বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক ভার্চ্যুয়াল কর্মশালায় বক্তারা একথা বলেন। পরিবারভিত্তিক চাষাবাদ চর্চার শিক্ষণীয় বিষয়, দেশ ও দেশের বাইরের অভিজ্ঞতা বিনিমিয় এবং সম্ভাব্য করণীয় নিরূপণের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেশন্যাল ল্যান্ড কোয়ালিশন (আইএলসি) এর সহযোগিতায় এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ এবং এশিয়ান ফার্মারস এসোসিয়েশন ফর সাসটেইনাবল রুরাল ডেভলপমেন্ট (এএফএ), ফিলিপাইন -এর যৌথ উদ্যোগে আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ সকালে এই ভার্চুয়াল জাতীয় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। 

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় পরিবারভিত্তিক চাষাবাদে নিয়োজিত পরিবারগুলোই সারা বিশ্বের খাদ্য যোগান দিয়ে আস্ছে। তাই আগামী দিনের টেকসই খাদ্য চাহিদার যোগান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময়কালকে আন্তর্জাতিক পরিবারভিত্তিক চাষাবাদ দশক বা UN Decade of Family Farming (UNDFF) হিসেবে ঘোষণা করেছে। টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ বা এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জাতিসংঘ ঘোষিত পরিবারভিত্তিক চাষাবাদ দশক উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম/কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।  তারই অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে বাংলাদেশে এই প্রথম এ ধরনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হলো।  

এতে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মোঃ সাখাওয়াত হোসেন শরিফ, ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) এর প্রতিনিধি ফারাজি বিনতে ফেরদৌস,  সার্ক এগ্রিকালচার কাউন্সিল-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ‍স্পেশালিষ্ট ড. রুদ্র বাহাদুর শ্রেষ্ঠা, এশিয়ান ফারমার্স এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভলপমেন্ট (আফা), ফিলিপাইন এর জেনারেল সেক্রেটারী, মা এস্ট্রেলা ‘এস্থার’ পেনুনিয়া, সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উল্লেখিত বিষয়ে দেশ-বিদেশের উদ্যোগ, প্রক্রিয়া ও পর্যবেক্ষণসমূহ তুলে ধরেন। এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ফ্যামিলি ফার্মিং সম্পর্কে বাংলাদেশর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন সংস্থার উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি। 

সভায় বক্তারা বলেন বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হয়, তার ৮০ শতাংশই আসে পারিবারিক কৃষি থেকে। যারা অধিকাংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। এদের মধ্যে নারী কৃষকের সংখ্যাও কম নয়। পরিবারের পুরুষদের শহর এবং দেশের বাইরে শ্রমিক হিসাবে মাইগ্রেশনের কারণে প্রতিনিয়ত কৃষি খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে নারীর অংশগ্রহণ ৭২.৬ শতাংশ। মুলত: এই পরিবারগুলো্ই পরিবারভিত্তিক চাষাবাদের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু কৃষিজ কর্মকাণ্ডে প্রধান কুশীলব হয়েও নারীর “কৃষক” হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নাই; নারী উন্নয়ন নীতি এবং কৃষি নীতিতেও স্পষ্ট কোন কিছু বলা হয় নাই। তাদের স্বীকৃতি ও সরবারি সুবিধার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা কম। যদিও দেশে কৃষি ও কৃষি নির্ভর কৃষকদের উন্নয়নের জন্য অনেক আইন ও নীতি রয়েছে কিন্তু তার সুযোগগুলো এই ধরনের কৃষকেরা নিতে পারছে না।  

আলোচকগণ পারিবারিক কৃষির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ও সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তরণের জন্য  ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের সমবায় একটি কার্যকর উপায় হতে পারে বলে মত দেন। তারা বলেন, এদেশের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন ও কৃষি থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনে সমবায় হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ  এবং কার্যকর পন্থা । পরিবারভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজেই সম্ভব বরে মত দেন। তাদের বক্তব্যে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাবনা ও বক্তব্য আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। আলোচনায় বিদ্যমান সমবায় আইনের আমুল পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরা হয়।          

সভাপতি বক্তব্যে জনাব শামসুল হুদা বলেন সমবায় পারিবারিক কৃষি সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারতো কিন্তু সমবায় সমিতি আইন ২০১৩ অতিরিক্ত কর্তৃত্বপরায়ণতা এবং যাদের জন্য সমবায় তাদের স্বার্থ রক্ষা না করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্বার্থ রক্ষার কারণে প্রকৃত সফলতা আসছে না। এফএও প্রতিনিধি জনাব অনিল দাস বলেন, পরিবর্তীত প্রেক্ষাপটে সমবায়ের ক্ষেত্রে নতুন ভাবনা ও কর্মপন্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এক্ষেত্রে সাফল্য আসবে।  

মুক্ত আলোচনায় শাহ্ এ মবিন জিন্নাহ, নির্বাহী পরিচালক, সিডিএ, দিনাজপুর থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন কৃষককে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সম্পৃক্ত করা না গেলে কৃষির সফলতা আসবে না। এজন্য তিনি প্রকৃত কৃষকদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কৃষক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা উপর মত দেন। হারুন-অর রশিদ, মো: হেলাল উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

IMG

১৮ মার্চ ২০২০
 
বরাবর,
 
বার্তা সম্পাদক/ প্রধান প্রতিবেদক
সকল দৈনিক/সাপ্তাহিক/টিভি চ্যানেল/অনলাইন দৈনিক/বেতার
 
কর্তব্যনিষ্ঠা, একাগ্রতা ও অনন্য মানবিক গুণাবলীই বঙ্গবন্ধুকে মহান নেতায় পরিণত করেছে 
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামও ততদিন চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ অচিন্ত্যনীয়। বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভালবাসা এবং কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা ও একাগ্রতার কারণেই টুঙ্গিপাড়ার এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়েও শেখ মুজিব নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু হতে পেরেছিলেন। (গতকাল) মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২০) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট ভূমি ও মানবাধিকারকর্মী এবং এএলআরডি-র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা এ কথা বলেন। রাজধানীর লালমাটিয়াস্থ সংস্থার নিজস্ব প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে এএলআরডি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জন্মশতবর্ষ পালনের পরিকল্পনা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
সভায় সভাপতির বক্তব্যে শামসুল হুদা আরো বলেন, প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাবিদ আবুল হাশিম অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে কোলকাতায় তার দলের কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে তিনি কর্মীদের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করতেন। তিনি তার লেখা ইন রেস্ট্রোস্পেকশন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,  প্রতিদিন সকালে সবার আগে দায়িত্ব বুঝে নেয়া এবং বিকেলে সর্বাগ্রে কাজের রিপোর্ট যে কর্মীটি করতেন তিনি হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। কর্তব্যনিষ্ঠার এই উদাহরণই বলে দেয় যে তিনি তার রাজনৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে কতখানি একাগ্র ছিলেন। সকাল বেলার সূর্য যেমন বলে দেয় দিনটা কেমন যাবে, তেমনি এ রকম বেশ কিছু উদাহরণ বলে দেয় যে মহান নেতা হওয়ার সোপানগুলো বঙ্গবন্ধু একেবারে ছোটবেলা থেকেই তৈরি করেছিলেন।   
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে যারা অংশ নেন এএলআরডি-র সহকারী কর্মসূচি সমন্বয়কারী (প্রশিক্ষণ) অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী, সহকারী কর্মসূচি সমন্বয়কারী (পানি অধিকার) সানজিদা খান রিপা, গবেষণা কর্মকর্তা ইলিরা দেওয়ান, প্রোগ্রাম কনসালট্যান্ট মাসুদ হোসেন খান, কর্মসূচি কর্মকর্তা (প্রশিক্ষণ) আজিম হায়দার, , শেখ আবু মোহাম্মদ ইউসুফ, মতিউর রহমান, শেখ আবু মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ। 
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন, রাজনীতি, মানবিক গুণাবলী, ধর্ম-নিরপেক্ষতা, বিরোধীদের প্রতি সহনশীলতা ও মানবিক আচরণ এবং রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তারা বলেন, নেতৃত্ব ও দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মীর প্রয়োজনকে তিনি সকল সময়ে স্বীকৃতি এবং মর্যাদা দিতেন। একজন মহান নেতা হিসেবে নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের সকল সময়ের আদর্শ। তাঁর নিজের লেখা বই এবং তাঁর উপরে লেখা বই, শিশুদের নিয়ে তাঁর ভাবনা, সুন্দরবন, পরিবেশ, নারীদের নিয়ে ভাবনা নিঃসন্দেহে তার সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে আমাদের সহায়ক হবে।  
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কচি-কাঁচার মেলা-র নির্বাহী পরিষদের সদস্য হাসান সাঈদ খোকন, রোগতত্ত¡ বিশেষজ্ঞ লে. কর্ণেল (অব.) ডা. সৈয়দ হাসান আব্দুল্লাহ, ক্লিও বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ হোসেন নুরুল্লাহ, এএলআরডি-র নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যবর্গ। 
 
বার্তা প্রেরক:-
 
 
 
শামসুল হুদা                             
নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি

এজিএম ২০১৯

IMG

১৩ নভেম্বর, ২০১৯

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ভূমি ও কৃষি সংস্কারে নিবেদিত বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি)-র ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা গতকাল ১২ নভেম্বর, ২০১৯ বিকালে সংস্থার লালমাটিয়াস্থ কার্যালয়ের নিজস্ব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থার চেয়ারপার্সন খুশী কবিরের সভাপতিত্বে এই বার্ষিক সভায় ৪২জন সদস্যের মধ্যে ৩২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। 
বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০১৮-১৯ সালের বার্ষিক কার্যপ্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এএলআরডি-র নির্বাহী পরিচালক ও নির্বাহী পরিষদের সদস্য সচিব শামসুল হুদা। সাধারণ সদস্যদের আলোচার পর তা সভায় অনুমোদন করা হয়। 
এছাড়া সভায় ২০১৮-১৯ সালের অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন করেন সংস্থার কোষাধ্যক্ষ আফজালুন নেসা চৌধুরী । সভায় সদস্যদের আলোচনার পর অডিট রিপোর্ট যথারীতি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। কোষাধ্যক্ষ আফজালুন নেসা চৌধুরী সংস্থার ২০১৮-১৯ সালের সংশোধিত বাজেট এবং ২০১৯-২০ সালের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। সাধারণ সদস্যদের মতামত ও আলোচনার পর এই বাজেটও সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। 
সাধারণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সদস্য হিসেবে অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, অধ্যাপক ড. শফিক-উজ-জামান, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, শহীদ হোসেন তালুকদার, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, আবদুল মজিদ মল্লিক, এ মিলন খান, অধ্যাপক ড. সীমা জামান, ড. আবুল হোসেন, শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ, এএফএম আখতার উদ্দিন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান প্রমুখ। 
বার্ষিক সাধারণ সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে সাধারণ সদস্যদের বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে সংস্থার নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সাধারণ নির্বাচনে এএলআরাডি-র নির্বাহী পরিষদের ১৪ জন সদস্য আগামী ২০১৯-২১ সাল পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। প্রথা অনুযায়ী নির্বাচনের পর সদস্যরা তাদের মধ্য থেকে চেয়ারপার্সন, ভাইস- চেয়ারপার্সন ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করেন। ফলাফলে আগামী ২ বছরের জন্য সংস্থার চেয়ারপার্সন হিসেবে খুশী কবির পুননির্বাচিত হন। ভাইস-চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রওশন আরা এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন আফজালুন নেসা চৌধুরী। সদস্যদের মধ্যে আছেন ড. শফিক উজ জামান, ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, ড. সীমা জামান, সাব্বির আহমেদ চৌধুরী, এ. মিলন খান, শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ, এএফএম আখতার উদ্দিন, মো: রফিকুল আলম, মো: মজিবুর রহমান, জিন্নাত আরা ফেরদৌস মনিকা ও সন্ধ্যা মালো। নির্বাহী পরিচালক ও পরিষদের সদস্য সচিব শামসুল হুদা পদাধিকার বলে নির্বাহী পরিষদের সদস্য থাকায় এএলআরডি-র ১৫ সদস্যের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হলো। 
এই নির্বাচন পরিচালনা করেন সুপ্রীম কোর্টের দুই জন বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাড. জাহিদুল বারী এবং অ্যাড. প্রমীলা বিশ^াস। 
চেয়ারপার্সন খুশী কবির ও নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা দক্ষতার সাথে নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করায় নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। 
বার্তা প্রেরক:

শামসুল হুদা
নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি।    

প্রচলিত সমবায় আইনের সংস্কার এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের অধিকার শীর্ষক সেমিনার

IMG

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

বরাবর,

বার্তা সম্পাদক/প্রধান প্রতিবেদক

সকল দৈনিক পত্রিকা/ টেলিভিশন চ্যানেল/ অন-লাইন সংবাদ মাধ্যম

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সমবায় আইনে বঙ্গবন্ধুর সমবায় দর্শনকে গুরুত্ব দিতে হবে

আজ সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম  “প্রচলিত সমবায় আইন সংস্কার এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের অধিকার” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা সমবায় আইনে বঙ্গবন্ধুর সমবায় দর্শনকে গুরুত্ব দিয়ে তার সংস্কার ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রওশন আরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মাননীয় সাংসদ রাশেদ খান মেনন সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, গ্রীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন এবং এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এতে সমবায় আইনের একটি পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন নর্থ-সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রিজওয়ানুল ইসলাম। এতে তিনি বর্তমান সমবায় আইনের সংস্কারের জন্য ১৩টি সুপারিশ তুলে ধরেন।

সেমিনারে সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, শুধু আইন সংস্কারের কথা বললে হবে না। এটাকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তাছাড়া আইন সংস্কারের এটা উপযুক্ত সময়। কারণ আগামী বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র জন্ম শতবার্ষিকী পালন করা হবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর  সমবায় দর্শনকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, এখনকার সমবায়গুলো ব্যবসা কেন্দ্রিক হয়েছে কিন্ত তা সমবায়ের দর্শণকে লালন করছে না। উদাহরণস্বরূপ তিনি কুমিল্লা বার্ড (ইঅজউ)-এর মডেলকে অনুসরণ করার কথা বলেন। এছাড়াও তিনি কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে সমবায়কে মূল ভূমিকায় থাকার বিষয়ে জোর দেন। এজন্য তিনি এএলআরডিকে সমবায় গড়ে তোলাসহ এ আন্দোলনকে বেগবান করতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমবায় আইনটি বর্তমানে কর্তৃত্বমূলক হয়ে গেছে, যার সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় সাধারণের আর্থিক উন্নয়নের পথ সমবায়। তাই সমবায়কে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। বর্তমানে এটাকে স্বাধীনভাবে চলতে দেয়া হচ্ছে না এবং এআইনের অপব্যবহার হচ্ছে। পৃথিবীর অনেক  দেশে সমবায়কে সহযোগিতা করার জন্য  মনিটরিং কার হয় কিন্ত এই রেওয়াজ আমাদের দেশে নেই বলেই চলে। আছে শুধু কর্তৃত্ব। যেটুকু সমবায় গড়ে ওঠে তাতে সরকার ও প্রভাবশালীরা মালিকানায় ভাগ বসায়। ফলে দেখা যায় মৎস্যজীবী সমবায়ে অমৎস্যজীবীর দৌরাত্ম। একারণে পিছিয়ে পড়া মানুষের সমবায় গড়ে তোলার সুযোগ থাকে না।

শামসুল হুদা বলেন, বর্তমান সমবায় আইনটি সমবায় গঠনের অন্তরায়। সাধারণ মানুষের সমবায়কে এই আইন স্বীকৃতি দেয়না। কারণ সমবায়ের কথা বলতে গেলে অবশ্যই সমবায় অধিপ্তরের নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্পদের মালিকানায় সমবায় মালিকানাকে ২য় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এই আইনে বঙ্গবন্ধুর সমবায় দর্শনের কোন প্রতিফলন নেই। তাই মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য এই আইন সংস্কার করা জরুরি।

এছাড়া এতে ড. আবুল হোসেন বলেন, সমবায়ের আলোচনা শুধু আইনের ভাষা দিয়ে হবেনা। সমবায়ের বিবর্তনের বিষয়টিকে লক্ষ্য হিসেবে রাখতে হবে। 

সেমিনারের সভাপতি ড. রওশন আরা বলেন, সমবায় আইনের সংস্থারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া আইন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। পল্লী ঋণের জন্য সমবায়কে গুরুত্ব দেয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকৃত প্রকৃত কৃষক, ভূমিহীন, তাঁতি, মৎস্যজীবীরা সমবায়ের নিবন্ধন ও সুবিধা পায় না। তিনি আরো বলেন, সমবায়ের উদ্দেশ্য সুষম বন্টন। তাই সম্পদের সুষম বন্টন ও মানুষের আয় বৈষম্য কমাতে সমবায় অতি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সমবায়ের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় তৃণমূলের জনসবায়ের নারী প্রতিনিধিসহ যুব ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তারা এতে তৃণমূলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমবায়ের বাস্তব ও তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ আইন সংস্কারের জোর দাবী জানান। সেমিনারে ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশে উল্লেখযোগ্য হলো-কোন সমবায় সমিতিকে নিবন্ধন দেয়া না হলে সে ব্যাপারে দেওয়ানী আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ; কোন অযোগ্য সমিতিকে নিবন্ধন দেয়া হলে তাকেও চ্যালেঞ্জের সুযোগ; সমবায়ীদের অধিকতর স্ব-শাসন সুনিশ্চিত করা এবং সমবায় সমিতিতে সরকার মনোনীত সদস্য না রাখার বিধান; সমিতির সদস্যদের দ্বারা মনোনীত কোন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যকে তাঁর পদ থেকে বহিষ্কারের আগে সমবায়ীদের অনুমোদন নেয়ার বিধান; সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সমিতি বন্ধ করে দেবার বিধান বাতিল করে বিষয়টি দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে ফয়সালার বিধান; কেউ অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হলে ফৌজদারী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে, সমবায় অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি গ্রহণের বিধান বিলোপ করা; সমবায় সমিতিগুলির সক্ষমতাবৃদ্ধি, তাদের নিয়মিত চাহিদা নিরূপন এবং সমবায় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র স্বাধীন সংস্থা রাখার বিধান আইনে রাখার দাবি জানানো হয়।

 

বার্তা প্রেরক:-

 

শামসুল হুদা

নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বান্দরবনে সাঙ্গু, মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেষ্ট এলাকার অন্তর্গত  রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলার প্রায় ২১টি জায়গা থেকে প্রতিবছর তোলা হয় চার থেকে পাঁচ লাখ ঘনফুট পাথর। কিন্তু এর কোন সরকারী অনুমোদন নেই। এতে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। শীতের শুরুতেই পানি সংকটসহ দেখা দিচ্ছে নানা বিপর্যয়। একদিকে এ সকল পাথর যেমন পানিকে মিনারেল করে তৈরী করে তেমনি তা পানির গতিপথকে বাঁচিয়ে রাখে, সেই সাথে পাহাড়ের ধ্বসকে প্রতিরোধ করে। স্থানীয় অদিবাসীরা জানান, ঝিরি-ঝরনার যেখানে পাথর অপসারণ করা হচ্ছে, সেখানে দ্রুত পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। পানি গরম হয়ে উঠছে এবং পানির ওপর একধরনের আস্তরণ পড়ছে।  এই অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে ৬টি অধিকার ভিত্তিক সংগঠন এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ পরিবেশবিদ আইনজীবী সমিতি  (বেলা), নিজেরা করি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, কাপেং ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বান্দরবন অধিবাসী মং সুই প্রু খেয়াং ২০ জনকে  বিবাদী করে  (সচিব,পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, সচিব, বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, পরিবেশ বিভাগ, প্রধান বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা, বন বিভাগ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, বান্দরবন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা,লামা বান্দরবন,    জেলা প্রশাসক, বান্দরবন, পুলিশ সুপার, বান্দরবন, চেয়ারম্যান, বান্দরবন জেলা পরিষদ, লামা, আলিকদম, থানচি, রুমা এবং নাইক্ষংছরি থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,  লামা, আলিকদম, থানচি, রুমা এবং নাইক্ষংছরি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা)  মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন যার নম্বর ১৭৬৭/২০১৯।

এর প্রেক্ষিতে আজ, ২৪/০২/২০৭ তারিখ বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি আশরাফুল কামালের দ্বৈত বেঞ্চ “ বান্দরবনে সাঙ্গু মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেষ্ট এলাকার বিভিন্ন ঝিরিসমূহ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে বিবাদীগণের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং পাথর উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবেনা সেই মর্মে রুলনিশি জারী করেন। সেই সাথে সাঙ্গু মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেষ্ট এলাকার বিভিন্ন ঝিরিসমূহ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা এফিডেভিট আকারে আগামী ৩০দিনের মধ্যে আদালতকে জনানোর জন্য বিবাদীগণের উপর নির্দেশন প্রদান করেছেন”।

বার্তা প্রেরক:-

আবেদনকারীদের পক্ষে,

শামসুল হুদা

নির্বাহী পরিচালক

IMG

‘‘নারীর ভূমি অধিকার, কৃষিতে অংশগ্রহণ এবং নারীর নিরাপত্তা’’ শীর্ষক সেমিনার
১৩ মার্চ ২০১৯ 
বরাবর
বার্তা সম্পাদক/ প্রধান প্রতিবেদক
সকল দৈনিক/সাপ্তাহিক/টিভি চ্যানেল ও বেতার
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
উন্নয়নের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বৈষম্য 
উন্নয়নের ভিত মজবুত করতে হলে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে। বৈষম্য কমিয়ে নারীর জন্য সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা না গেলে উন্নয়ন তরান্বিত হবে না। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে আজ নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় বৈষম্য দূর করতে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো পরিবর্তনের দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন উপলক্ষে ‘‘নারীর ভূমি অধিকার, কৃষিতে অংশগ্রহণ এবং নারীর নিরাপত্তা’’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে এএলআরডি। 
নারীর ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ- ১৯৮৪ তে নারীর অন্তর্ভূক্তি যোগ করার জন্য এর সংশোধন করতে হবে বলে সেমিনারে বক্তারা দাবি জানান। একই সাথে বক্তারা খাসজমি বিতরণ ও বন্দোবস্ত নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নারীর নিরাপত্তার জন্য সর্বস্তরে নারীবান্ধব সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথাও বলেছেন। 
নারী অধিকার কর্মী খুশী কবি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জনাব রাশেদ খান মেনন এম. পি.। আলোনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান; উন্নয়ন কর্মী এবং এএলআরডির নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ আফজালুন্নেসা চৌধুরী; এবং এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত তৃণমূলের সংগঠিত নারীদের মধ্যে রাঙ্গামাটির নারী হেডম্যান চম্পা চাকমা, ফরিদপুরের নারী কৃষক মনোয়ারা বেগম, নাটোরের নারী কৃষি শ্রমিক লিপি ওরাঁও, পটুয়াখালীর মাকসুদা বেগম, মধুপুর থেকে সুইটি রিসিল, প্রমুখ তাদের মজুরী বৈষম্য, বঞ্চনা ও দাবির কথা তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছেন। 
মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি ক্রমেই সেবা ও শিল্প খাতের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। অন্যদিকে, দূর্বল হচ্ছে কৃষিখাত। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৫২ দশমিক ১ শতাংশ আসে সেবা খাত থেকে, শিল্প খাত থেকে আসে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ আর কৃষি খাত থেকে আসছে মাত্র ১৪ দশমিক ২ শতাংশ (বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ: ২০১৬-১৭)। অর্থনীতিতে কৃষির অবদান কমে এলেও সর্বোচ্চ জনশক্তি নিয়োজিত আছে কৃষি খাতে। বর্তমানে কৃষিতে নিয়োজিত আছে জনশক্তি ৪০.৬ শতাংশ। ভূমি ও কৃষির বানিজ্যিকিকরণ হচ্ছে; ভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে। নগদ অর্থের হাতছানিতে কৃষি থেকে পুরুষের সম্পৃক্ততা কমে যাচ্ছে। পুরুষের অবর্তমানে দূর্বল এই কৃষি খাতে নারীদের সম্পৃক্ততা দ্রুত হারে বাড়ছে। গত ৭ বছরে কৃষিখাতে নারীর অংশগ্রহণ ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিখাতের ২১ ধরনের কাজের মধ্যে ১৭টিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। কৃষিতে নারীর সর্বাধিক অবদান থাকা সত্ত্বেও ভূমিতে নারীর মালিকানা; প্রবেশাধিকার; ও নিয়ন্ত্রণ নেই। ভূমি মালিকানা ও কৃষিতে স্বীকৃতি না থাকার কারণে নারী প্রয়োজনীয় ঋণ ও অন্যন্য কৃষিসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি বাজারব্যবস্থায়ও তার অংশগ্রহণ নেই।
সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার কারণে নারীরা এখনও কৃষক হয়ে উঠতে পারেনি। নারীকে কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। কৃষি ঋনের ক্ষেত্রে নারীকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ কোটা ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নিতে হবে। অ-কৃষি খাতে কৃষিজমির ব্যবহার রোধ করতে ভূমি ব্যবহার নীতিমালা প্রনয়ণ করতে হবে।
প্রধান অতিথি রাশেদ খান মেনন এম.পি বলেছেন, উন্ন্য়ন সূচকে আমরা এগিয়ে আছি। প্রবৃদ্ধি এখন ৭.৮৬ শতাংশ। কিন্তু সেই সাথে বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্যের ব্যবধান ১ শত ২১ গুন বেড়েছে। ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ ১৯৮৪ তে নারীর অন্তর্ভূক্তি যুক্ত করতে হবে। তাছাড়া, অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। যদিও সংবিধানে সমতা ও সাম্যের কথা বলা আছে। শিশু ও নারী ধর্ষণ ও হত্যার প্রবণতা সংখ্যায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল নারী সংগঠনকে একত্রিত হয়ে নিরাপত্তা সহ নারীর সকল অধিকার প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
শামসুল হুদা বলেন, কৃষির আবিষ্কারক নারীর জন্য আইন তৈরি করে হলেও কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু প্রবৃদ্ধি দিয়ে উন্নয়নের আসল চেহারা বোঝা যায় না। বৈষম্য চিহ্নিত করে তা দূর করতে হবে। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হতে হবে।
সভাপতি খুশি কবির বলেছেন, কৃষি, ভূমির বাণিজ্যিকিকরণের কারণে আমাদের খাদ্য সার্বভৌমত্ব আজ হেরে গেছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর পরিবর্তন আনতে হবে। ভূমি সংস্কার ও খাসজমি নীতিমালা সংশোধনের জন্য সকলকে এক টেবিলে বসতে হবে।
 
বার্তা প্রেরক:-